Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

Search Suggest

Open up

পুরুলিয়া নাচনি নাচ /পুরুলিয়া ঝুমুর গান/Folk Dances of West Bengal

নাচনি নাচ, মালাবতী নাচনি নাচ, পুরুলিয়া নাচনি নাচ, নাচনি নাচ ঝুমুর, পুরুলিয়া ঝুমুর গান, নাচনী নাচের সেরা সুন্দরী মহিলার নাম কি? Nachni nach purulia

 নাচনি নাচ :


 

মালাবতী নাচনি নাচ

নাচুনি নাচ মানভূমের লোক জীবনের একটি নাচ। যে কোনও সময় এই নাচ অনুষ্ঠিত হতে পারে। অধিকাংশ অন্যান্য নৃত্য যেমন উৎসবকেন্দ্রিক বা ঋতুভিত্তিক, এই নাচ তেমন নয়। সারা বছরই ইচ্ছে বা খেয়াল-খুশিমতো যে কেউ এই নাচের আসর বসাতে পারেন। গবেষকরা যাই বলুন, নাচুনি নাচ সর্বাঙ্গীভাবে আপামর লোকজীবনে অবিসংবাদিতভাবে স্বীকৃত নয়, স্বীকৃতি নেই নাতনিদেরও। তবে শুধু মানভূমই নয়, বাংলা বিহার উড়িষ্যা'য় এই নাচের প্রচলন আছে। আর্থসামাজিক মানদণ্ডে লোক সামাজিক রুচি-মননশীলতা-চেতনা সবই সবই নির্ভরশীল। সেই নিরীখে তথাকথিত পিছিয়ে-পড়া সমাজে নাচনি নাচ প্রচলিত। মূলত গ্রামাঞ্চলেই এই নাচ পরিবেশিত হয়ে থাকে। 

 

পুরুলিয়া নাচনি নাচ

সারা দিন মাঠে-ঘাটে-ক্ষেতে-খামারে খাটুনির পরে গ্রামের সব শ্রমজীবী মানু ঘরে ফেরেন সন্ধ্যায়। আহারের পরে তাই একটু রাত করেই এই নাচ সাধারণত ক্ষেত্রে শুরু হয়। প্রায় সারা রাত ধরেই চলতে থাকে এই নাচ। গ্রামের উপাস্তে বা বাইরে খোলা মাঠে নাচের আসর। অনেক ক্ষেত্রে মঞ্চেরও ব্যবস্থা থাকে। তবে তা তেমন বিশেষ লক্ষণীয় বা দৃষ্টিনন্দন নয়। কেথাও বাঁশ বা খুঁটি পুঁতে কাপড় বা রিপল টাঙ্গিয়ে, কোথাও আবার খোলা জায়গাতেও। মোটামুটিভাবে নাচুনি নাচের আসর তেমন কোনও আকর্ষণীয় ব্যাপার নয়। আলো বলতে হ্যাজাক একটি, দুটি, খুব বেশি হলে তিনটি (স্থানীয় ভাষায় 'ডে লাইট' বা হ্যাসেক্‌ বাতি)। অনেক সভ্যতালোক বিবর্জিত দূরান্তের গ্রামে এখনও লণ্ঠন আগেকার দিনে জ্বালানো হত মশাল। এখন বৈদ্যুতিকৃত গ্রামে মেন লাইন থেকে হক্ করেও আলোর ব্যবস্থা করা হয় অনেকক্ষেত্রে। নাচের আসার নিদেনপক্ষে একটা সতরঞ্চি। দর্শক বা শ্রোতাদের বসার আসন বলতে আসরের সামনের বা পাশের মাটি। কাপড় বা পলিথিনের চাদর থাকতেও পারে।

নাচনি নাচ কেমন সাজে

_  সুতির কাপড়ের ছাপানো বাংরা (ঘাঘরা) আর রীন কাপড়ের ব্লাউজ। দুটি পোষাকের মধ্যিখানে কোমরের সংলগ্ন অংশ প্রাকৃতিভাবেই দৃশ্যমান। একটি পাতলা হালকা রঙের ওড়নার আবরণে দেহের সম্মুখস্থ মধ্যভাগ ঢাকা। আলতা মাখা দুপায়ে ঘুর, কপালে চওড়া রঙীন টিপ। পাউডার ঘসা মুখমণ্ডল, খিলি পানে ঠোঁট লাল। সাবান ঘসা ফাঁপা চুল খোঁপা করে বাঁধা। খোঁপায় ফুল, রঞ্জন ফিতে আর বেলকাঠি। গলায় রুপোর (সোনারও হতে পারে) চেহ (হার), কানে চেন মাকড়ি, নাকে নাকছাবি। চোখে কাজল থাকতে পারে নাও পারে। হতে একটি রঙীন কমাল। এ এক বৈচিত্র্যপূর্ণ স্বতন্ত্র সাজ, যা দেখে তাদের চেনা যাবে সহজেই।

 

 নাচনি নাচ ঝুমুর, পুরুলিয়া ঝুমুর গান


আকারে আয়তনে নাচনি-নাচের দল খুব একটা বড় হয় না। খুব বেশি হলে পাঁচ থেকে সাত জন। গায়েন, বায়েন, অন্যানা বাজনদার মিলিয়ে। বাদ্যযন্ত্র বলতে ঢোল, মস (ধাননা), সানাই, করতাল, চরপাটি ইত্যাদি। পারেন নাচনি নিজেই, বায়েন নাচনির রসিক (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে)। এই নাচের মান কুমুরা অতিমাত্র শসার রসাত্মক, প্রায় অশ্রীল পর্যায়ের। গবেষকগন এইসব গানের মধ্যে নাকি উচ্চা সঙ্গীতের সন্ধান পেয়ে থাকেন। অধিকাংশ গানই প্রেম-বিরহাত্মক ঝুমুর। 'রঙীন ঝুমুরও আছে এর মধ্যে। নাচনিশালিয়া' ঝুমুর বলে এগুলি চিহ্নিত। গানগুলির সুর যথাক্রে খ্যামটা, ভাদরিয়া, দাঁড়শালিয়া প্রভৃতি।


  • নাচনি নাচের সেরা সুন্দরী মহিলার নাম কি?
  • নাচনি নাচে সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ের নাম কি ?
  •  POSTOBALA DEVI / PURULIA JHUMUR / INDIAN FOLK DANCE
  • নাচনি নাচের সাজগোজ এর পোশাক কেমন ?

 

ঝুমুর গান 

সীমান্ত বাংলার প্রাণ হলো ঝুমুর গান। লোকসংগীতের বহু আলোচিত ও জনপ্রিয় সংগীত হলো ঝুমুর। যার বিস্তৃতি আজ একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, অনেকটাই প্রসারিত। এই গান কোনো সুর বা রাগিণীকে আশ্রয় করে জন্ম লাভ করেনি। এর জন্ম শ্রমসংগীত হিসাবে। তাই এই গান সহজ, সরল, কারুকলাহীন। ঝুমুর কথাটির আভিধানিক গুলির অর্থ হলো শৃঙ্গার বহুল গীত। ঝুমুর শব্দটির প্রথম প্রয়োগ দেখা যায় দামোদর সেনের ঝুমুরশি "সংগীত দামোদর' গ্রন্থে। দামোদর সেন ছিলেন প্রখ্যাত বৈষ্ণব মহাজন গোবিন্দ দাস কবিরাজের মাতামহ। তিনি বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকট শ্রীমন্ড গ্রামে বসবাস ঝুমুরচা করতেন।

ঝুমুরের উৎপত্তি ও বিকাশের অনুসন্ধান করলে আমাদের ফিরে যেতে হয় ঝুমুর আধুনি অঞ্চলের সভ্যতার বিকাশের দিকে। ছোটনাগপুর মালভূমির যে বিশেষ ভৌগোলিক বিশ্ববি অঞ্চলে এই গানের বিকাশ হয়েছে তা ছিল আদিম মানুষের আদর্শ বাসস্থান। অন্যান্য জীবের মতো আদিম অবস্থায় মানুষের দুটি প্রধান কাজ ছিল— ক্ষুধা নিবৃত্তি এবং বংশবৃদ্ধি করা। 

ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য জঙ্গলের ফল ছাড়া পশুপাখি শিকার করা ছিল প্রধান অবলম্বন। তারপর আগুনের ব্যবহার—দৈব নির্ভরতায় বিশ্বাস ও গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ চাষ আবাদ শিখে উৎপাদনশীল যুগে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জীবনকে সে তার শিল্পে ফুটিয়ে তুলেছে। আমরা যে বিশেষ অঞ্চলের ঝুমুরের কথা বলছি সেখানে একটি বিশেষ লোকসংগীত আদিম মানুষের বিশেষ এক বা একটা দিক ধারণ করে আছে।


ঝুমুর গানের বিষয়বস্তু : ঝুমুর গানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত। সীমান্ত বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্খা, সুখ-দুঃখ, কামনা-বাসনা, ক্ষোভ-অভিমান-হতাশা সহজ সরল ভাষায় ঝুমুরের মধ্যে পরিবেশিত হয়।


কয়েকজন ঝুমুর শিল্পি : দীনার্তাতি, উদয় কবি, বিনন্দ সিংহ, গৌরাঙ্গিয়া সিংহ, চামু কর্মকার, ভবপ্রীতানন্দ ওঝা, রামকৃষ্ণ গাঙ্গুলী, দ্বিজটিমা, জগৎচন্দ্র কবিরাজ, সলাবত মাহাত, কৃত্তিবাস কর্মকার, সুনীল মাহাত, কুচিল মুখার্জী প্রমুখ।

 

উপসংহার : প্রাচীন কাল থেকে একবিংশ শতাব্দীতেও ঝুমুর সমানভাবে মুখর। বিচিত্র কলারূপে বিকশিত। এ গান মানুষের আবেগ প্রকাশের শিল্পীত কলারূপ। মানুষের চাওয়া পাওয়া আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এ গানে প্রতিবিম্বিত হয়েছে। সমাজ বিকাশের সাথে সাথে এখানে নানান গোপন কথা মুকুলিত হয়েছে। আধুনিক সংস্কৃতি তাকে ক্ষয়প্রাপ্ত করতে পারে নি। বরং নব মন্ত্রে সজ্জীবিত হয়েছে। বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ড ছেড়ে আজ ঝুমুর বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। ভারতবর্ষের প্রধান লোকসংগীত গুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ঝুমুর। আর সেই স্বীকৃতির প্রমাণ স্বরূপ প্রখ্যাত 

ঝুমুরশিল্পী সিন্ধুবালা দেবী পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার।

 

ঝুমুর আজ আর লোকগান নয়, বহু মানুষের জীবিকা। সুশিক্ষিত সমাজ সাদরে - ঝুমুরচর্চা করেছে। ঝুমুর গান আজ সি.ডি বন্দী হয়ে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় সমানভাবে পাল্লা দিচ্ছে। রাঁচি, জামসেদপুর, ধানবাদ, পুরুলিয়াতে গড়ে উঠেছে ঝুমুর একাডেমি। আধুনিক শিক্ষিত প্রজন্মের কাছে ঝুমুর গানকে গ্রহণীয় করে তোলার জন্য কলেজ, এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। বর্তমানে পুরুলিয়াতে সিধো-কানহো-বীরসা না বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝুমুরের পঠন পাঠন হচ্ছে। এছাড়া নানান কলেজেও যোগ হয়েছে ঝুমুর রং চর্চা। ঝুমুর শিল্পীদেরকে সরকারি ভাতার মধ্যে আনা হয়েছে। গ্রাম-গঞ্জের কাদামাটি বনবাদাড় ছেড়ে ঝুমুর আজ ধনীর দশতলা ফ্ল্যাটে জায়গা করে নিয়েছে।

Post a Comment