Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

Search Suggest

Open up

জঙ্গলমহলের বিস্তারিত তথ্য /পুরুলিয়া জেলার উৎপত্তি/ jangalmahal west bengal

জঙ্গলমহল কাকে বলে, bengal, jangalmahal tourism,জঙ্গলমহল কিভাবে সৃষ্টি হয় ,জঙ্গলমহলে কি কি জিনিস উৎপন্ন হয়, পুরুলিয়া জেলার উৎপত্তি, মানভুম

জঙ্গলমহল কিভাবে সৃষ্টি হয় : 

 জঙ্গল মহল মূলত 

একটি কৃষিনির্ভর অঞ্চল। ক্ষুদ্র ও কুটিরজাত শিল্পই প্রধান। এদের মধ্যে আছে লাক্ষাশিল্প, তসর ও বন্ধুবান, পিতল ও কাঁসার দ্রব্য, ছুরি কাঁচি নির্মাণ, চর্মশিল্প, মৃৎশিল্প, বিড়ি প্রস্তুত ইত্যাদি। বৃহৎ কার্যক্রম বলতে কয়লা উত্তোলন ও কোল ওয়াশারি উল্লেখনীয়।

লাচ্চা, তসর বস্তু বয়ন, পিতল-কাঁসা, ও ছুরি-কাঁচি নির্মাণ পুরুলিয়ার প্রাচীন ও ঐতিহ্যমণ্ডিত শিল্প। একসময় এই সকল ক্ষুদ্র ও কুটীর-শিল্পীদের আর্থিক সংগতি ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যা এই সংগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের শতকরা ৮০ ভাগের অধিক লাক্ষা জাল মহলের পুরুলিয়া জেলা থেকে সংগৃহীত হয়। 



লাক্ষা মূলতঃ 

একটি রপ্তানী ভিত্তিক উৎপাদন হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবর্তদ্রব্যের আবির্ভাবে এবং থাইল্যান্ডে লান্ডার নাম অস্বাভাবিক পড়ে যাওয়ায় ইহার প্রভাব এই শিল্পের উপর পড়েছে। যাই হোক, সুলত শ্রমিক ও লাক্ষা উৎপাদনের উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে। সময়োপযোগী ও পর্যাপ্ত সরকারী আনুকূল্যই এই শিল্পের সাথক উন্নতি ঘটাতে পারবে। লাক্ষা সংগৃহীত হয় সাধারণতঃ কাল্দা, বাঘমুন্ডি, মানবাজার, বান্দুয়ান, ভুলিন, গরজাইপুর, রঘুনাথপুর ও তাহার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে। লাক্ষাকীট প্রতিপালিত হয় কুসুম, পলাশ, কুল প্রভৃতি বৃক্ষে। বলরামপুর ও ঝালদায় গালার কারখানা রয়েছে।

তসর-বজ্রবয়নও একটি প্রাচীন ঐতিহ্যপূর্ণ শিল্প। রঘুনাথপুর পূর্বে এই শিল্পের মূল কেন্দ্র ছিল। কিন্তু বনভূ মির দ্রুত হ্রাসে গুটিপোকা সংগ্রহের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে অধিক দামে কাঁচামাল সংগ এই করিতে হয় বলে এই শিল্পে পারিবারিক উদ্যোগের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে রঘুনাথপুরসহ কাশীপুর, পুরুলিয়া, দালালি, চিতা, মানবাজার, বাঘমুক্তি এবং আরসা থানা এলাকায় তসর বস্ত্র উৎপাদিত হচ্ছে। ধান, মটকা, অঙ্গ, বাসন, বাপতা, কেতা, পাগরী, শাড়ি ও ধুতী প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার তসরবস্তু প্রস্তুত হয়। সাধারণতঃ ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে তসরবস্ত্রের ব্যবহার ও বিক্রয় অধিক দেখা যায় এবং পুরুলিয়ার তসরবস্ত্রের বাজার পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর-ভারতের অপর কয়েকটি রাজ্যেও দেখা যায়।

এই জেলায় বয়ন-শিল্পিগণ যে তসর দ্বারা বস্তু প্রস্তুত করেন তার অধিকাংশই চক্রধরপুর, চাইবাসা, চাকুলিয়া, গিরিডি ও ময়ূরভঞ্চ থেকে সংগৃহীত হয়। তসরবস্ত্র শিল্পের উন্নতি করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও এটি গুরুত্ব পাবে। এই শিল্প-শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করে কাজের আকর্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং কাঁচামালের সরবরাহ ও বিক্রয়-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঐতিহ্যের সংলো উন্নততর প্রযুক্তির সংযোগ সাধনও শিল্পের বিকাশ ও উন্নতিতে সাহায্য করবে। জঙ্গলমহলে হস্তচালিত তাঁতবস্ত্রবয়নও একটি প্রাচীন শিল্প। হস্তচালিত তাঁতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন বাড়বে এবং গুণমানও রক্ষিত হবে।

জঙ্গলমহলে কি কি জিনিস উৎপন্ন হয়:

ছুরি-কাঁচি নির্মাণ-শিল্প জঙ্গল মহলে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে ঝালদা ও পুরুলিয়ার এই শিল্পে সুনাম ছিল। ঝালদার দন্ড কারিগরেরা ইংল্যান্ডে প্রস্তুত অস্ত্র মেরামতি ও ঐ ধরণের অস্ত্র প্রস্তুত করতে পারতেন। বর্তমানে এই অঞ্চলে বহু শিল্প ইউনিট উৎপাদনে নিযুক্ত আছে। এখানে প্রস্তুত তুরপুর্ণ (Auger ), বাটালি (Chisel), ছুরি ইত্যাদির প্রচুর চাহিদা রয়েছে কলকাতা এবং অন্যান্য রাজ্যেও। এই শিল্পে কাঁচামাল হিসাবে প্রচুর লৌহের টুকরা (Scrap iron) ব্যবহৃত হয় যা কলিকাতা শিল্পাঞ্চল ও টাটানগর হইতে সহজেই পাওয়া যায়। উৎকৃষ্ট দ্রব্য উৎপাদনের জন্য কার্বন ইস্পাত ব্যবহৃত হয়। ঐতিহ্যমন্ডিত একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প বর্তমানে সরকারী সহায়তায় পুনরায় উন্নতি লাভ করছে। পিতল ও কাঁসার দ্রব্য নির্মাণ কিছুকাল আগেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং গৃহস্থালীতে পাত্র হিসাবে এর বিপুল

ব্যবহারও ছিল। কিন্তু ইদানিং কালে অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও ইস্পাত প্রবা সুলভে পাওয়া যায়। পিতল ও কাঁসার মূলা বুদ্ধির জন্য এদের ব্যবহার কমে যাচ্ছে এবং এই শিল্পের অবস্থার অবনতি অনিবার্য হয়ে পড়ছে।

  Junglemahal real story

বিড়ি-প্রস্তুত পুরুলিয়ায়

যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ২০,০০০ বিড়ি শ্রমিক প্রধানতঃ ঝালনা, পুরুলিয়া, রঘুনাথপুর, বলরামপুর ও কাশীপুরে বিড়ি প্রস্তুত কার্যে নিযুক্ত আছেন। নুন্যাধিক দুটি সমবায় সংস্থার পরিচালনায় বিড়ি প্রস্তুত হয়। এই কারখানাগুলি প্রধানতঃ পুরুলিয়া, ঝালদা, আদ্রা, আনারা, রঘুনাথপুর, দুবরা, পুঞ্চা ও হুড়ায় অবস্থিত। 

জেলায় দৈনিক প্রায় ২.৫ কোটি বিড়ি প্রস্তুত হয়। বিড়ি শিল্পের কাঁচামাল হল প্রধানতঃ কেন্দুপাড়া ও তামাক। জেলায় প্রচুর কেন্দুপাতা উৎপন্ন হয়। তামাক অধিকাংশই দক্ষিণ ভারত, বিশেষতঃ গুজরাট থেকে আমদানী করা হয়।

চর্মশিল্পের মধ্যে ঝাঁচা চামড়া ট্যান করা ও জুতো তৈয়ারী শিল্প দেখা যায় জয়পুর, পুরুলিয়া, বিশপুরিয়া, গোবরা, মাগুরা ও মানবাজারে। এই শিল্পের উন্নতিতে সরকার সাহায্য করছে। প্রায় ৩,০০০ লোক এই শিল্পে নিযুক্ত আছেন। আসবাবপত্র, গৃহের দরজা, জানালা ইত্যাদিতেও যথেষ্ট শ্রমনিযুক্ত হয়ে থাকে এবং পুরুলিয়ার এই কার্যে ১,০০০ লোক জীবিকা সংগ্রহ করে থাকেন। মৃৎশিল্পও পুরুলিয়ায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। টালি, ইট ও মূর্তি তৈয়ারীতে ২৫ টি ইউনিটে ৩,০০০ লোক কর্মরত।

টালি ইত্যাদি প্রস্তুতে সরকারী সহায়তাও পাওয়া যায়।


ঝুড়ি নির্মাণ মূলতঃ

 ডোম সম্প্রদায়-এর লোকেরা করে থাকেন। দৈনন্দিন কাজে এর উপযোগিতা থাকলেও উদ্যোগের সংখ্যা সীমিত। ইক্ষুর রস থেকে গুর ও খান্দসরি প্রস্তুত পুরুলিয়ায় আসায় বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানে প্রায় ১,০০০ শ্রমিক ইক্ষু চাষ এবং তা থেকে গুড় প্রস্তুতে নিযুক্ত আছেন। আধুনিক ও স্বপ্নভ্রমসাধ্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে এটি একটি আকর্ষণীয় উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে।


মুখোশ-নির্মাণ শিল্প দেখা যায় জয়পুর থানার অর্ন্তগত ডমোদি (Dormodi )-তে এবং বাঘমুন্ডি থানার চারিল গ্রামে। মুখোশ নির্মাণ শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা নগণ্য হলেও এবং এ থেকে আয় বিশেষ উল্লেখযোগ্য না হলেও পুরুলিয়ার বিখ্যাত। ছৌ-নাচের মুখোশ সরবরাহে এর যথেষ্ট গুরুত্ব আছে এবং এর সাথে জড়িয়ে আছে পুরুলিয়া জেলার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও খ্যাতি।

জঙ্গল মহলে কয়েকটি আধুনিক চাউলকল স্থাপিত হয়েছে। পুরুলিয়া জেলার চেলিয়ামা, রঘুনাথপুর, ঝালদা ও মানবাজারে চালকল আছে। এছাড়া আরও অনেকগুলি ছোট চাউলকল জঙ্গলমহলের বিভিন্ন স্থানে ধানভানার কাজে নিযুক্ত রহিয়াছে।


পর্যটন শিল্প : পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়, বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড় দর্শনে ও পর্বতারোহনে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম ও কাঁকড়াঝোরের বনাঞ্চল একসময় পর্যটকদের অন্যতম ভ্রমনস্থান হিসেবে চিহ্নিত ছিল। পরিকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পেলে জঙ্গলমহলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের আকর্ষনে ভবিষ্যতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে, একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

  • Which area in West Bengal is called the Jungle Mahal?
  • How many district are there in Jangalmahal?
  • Which are the tribes of Jangalmahal?
  • Which districts are in Jangalmahal?
  •  jangalmahal in which district
  • কোন বিদ্রোহের ফলে জঙ্গলমহল জেলা গঠিত হয় ?
  • কয়েকটি জঙ্গলের নাম ?
  • কোন অঞ্চলকে জঙ্গলমহল বলা হয় ?
  • জঙ্গলমহল কেন গঠিত হয়
  • আরাবারি জঙ্গল পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত ?
  • জঙ্গলমহল এলাকার বাসিন্দা কারা ?
  • জঙ্গলমহল জেলা কোন বিদ্রোহের পর গঠিত হয় ?
  • পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গল
  • Purulia Jangalmahal information in bengali


Post a Comment