Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

Search Suggest

Open up

ছৌ নৃত্যের আলোচনা / Purulia Chou Dance / ছৌ নাচ সম্পর্কে কিছু আলোচনা.

লোকনৃত্যের সংজ্ঞা দাও ছৌ, পুরুলিয়ার ছৌ নাচ,ছৌ নাচের মুখোশ,ছৌ নাচের ছবি,ছৌ-এর মুখোশ তৈরি, purulia Chou dance, purulia chhau dance state,ছৌ নাচ কোথায়

লোকনৃত্যের সংজ্ঞা দাও ছৌ নৃত্যের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো :

  

ছৌ নাচ কোন রাজ্যের নৃত্য :     


Chhau dance history

 ছৌ নাচ বা ছো নাচ বা ছ নাচ একপ্রকার ভারতীয় আদিবাসী যুদ্ধনৃত্য। এই নাচ ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় জনপ্রিয়। ছৌ নাচের আদি উৎপত্তিস্থল পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা। উৎপত্তি ও বিকাশের স্কুল অনুযায়ী ছৌ নাচের তিনটি উপবর্গ রয়েছে। যথা— পুরুলিয়া ছৌ সরাইকেল্গা ছৌ ও ময়ূরবঞ্জ ছৌ।


পুরুলিয়ার ছৌ নাচ



সরাইকেল্লা ছৌ-এর উৎপত্তি অধুনা ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সরাইকেল্লা খরসোয়া জেলার সদর সরাইকেলায়।

 পুরুলিয়া ছৌ-এর উৎপত্তিস্তল পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা এবং ময়ূরভঞ্জ ছৌ-এর উৎপত্তিস্থল ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলা। এই তিনটি উপবর্গের মধ্যে প্রধান পার্থক্যটি দেখা যায় মুখোশের ব্যবহারে। সরাইকেল্লা ও পুরুলিয়া ছৌ-তে মুখোশ ব্যবহৃত হলেও, ময়ূরভঞ্জ ছৌ-তে হয় না।

 

ছৌ নাচ কি ধরনের ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রাম মহকুমায় প্রচলিত ছৌ নাচের ধারাটি পুরুলিয়া ছৌ নামে পরিচিত। এই ধারার স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। পুরুলিয়া ছৌ-এর সৌন্দর্য ও পারিপাট্য এটিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। ১৯৯৫ সালে নতুন দিল্লিতে আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ট্যাবলোর থিমই ছিল ছৌ নাচ। ছৌ মূলত উৎসব নৃত্য। পুরুলিয়ার ছৌ নাচে বান্দোয়ান ও বাঘমুন্ডর দুটি পৃথক ধারা লক্ষ করা যায়। বান্দোয়ানের নাচে পালাগুলি ভাব গম্ভীর এবং বাগমুন্ডির নাচে পালাগুলি হয় বীরত্ব ব্যঞ্জক। জেলায় ছোঁ নাচের মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ভূমিজ মুন্ডারা। পরে এই নাচে মাহাতো সম্প্রদায়ের মানুষেরা নর্তক হিসেবে ও ডোম সম্প্রদায়ের মানুষেরা বাদক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।



ছৌ নাচের ছবি 


ছৌ নাচের মুখোশ, মৃৎশিল্প

মুখোশ ও মৃৎশিল্পের আলোকপাত ছৌ-নাচ মুখোশ নৃত্য। ছৌ-নাচের জন্যই শিল্পীরা মুখোশ তৈরি শুরু করে। নাচটির যত প্রসার হচ্ছে, যতই নাচটি দেশে বিদেশে। জনপ্রিয় হচ্ছে, মুখোশের ব্যবহার ততই বেড়ে যাচ্ছে। পশ্চিমবাংলার মধ্যে ছৌ-নাচের মুখোশ 'এক বর্ণময় শিল্পকলা'। 'মুখোশ শিল্পে পুরুলিয়া জেলা রাজ্য ও দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও খ্যাতিলাভ করেছে।'


মুখোশ শিল্পে পুরুলিয়ার অগ্রগতি বিচার করলে বলতে হবে সারা রাজ্যের মধ্যেই পুরুলিয়া এই শিল্পটিতে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। ছৌ-নাচের মুখোশ তৈরিতে নিত্য-নতুন কৃৎকৌশল উদ্ভাবিত হচ্ছে। পুরুলিয়া শৈলীর মুখোশ ঝাড়খন্ড রাজ্যেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ছৌ-নাচের মুখোশ এবং ঘরসজ্জার মুখোশ মিলে শতাধিক রকমের মুখোশ তৈরি হয়।

ছৌ নাচের মুখোশ কোথায় তৈরি হয় ?

পুরুলিয়া জেলার বাঘমুণ্ডি থানার চড়িদা গ্রাম ছৌ-নাচের মুখোশ শিল্পের প্রধান কেন্দ্র। চড়িদা গ্রামটি বাঘমুন্ডি থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে। পুরুলিয়া থেকে গ্রামটির দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। এই গ্রামটিই কিংবদন্তী ছৌ-শিল্পী সিং মুড়ার বাসভূমি ছিল। মুখোশ শিল্পীরা (সূত্রধর সম্প্রদায়) এসেছিলেন বর্ধমান থেকে। বাঘমুন্ডি রাজাদের প্রতিমা গড়ার জন্য তাদের চড়িদা আনা হয়েছিল। চড়িদা গ্রামে সূত্রধরদের সঠিক সময় কাল জানা যায় না। অনুমান আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বে তারা চড়িদায় বসলতি করে। (১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ)। 'শতাধিক সুত্রধর পরিবার ছাড়াও এই গ্রামে কালিন্দী, কুম্ভকার, রায়, গাঙ্গুলী, গড়াই, মাহাত সহ মুন্ডা আদিবাসী পরিবারের বসতি আছে। .......সারি সারি দোকান—রং বেরং-এর মুখোশ ঝুলছে আর তৈরীও হচ্ছে ঘরে ঘরে।

 

চড়িদা ছাড়াও ছৌ-এর মুখোশ তৈরি হয় জয়পুর থানার ডুমুরডি গ্রামে। ছৌ-নাচের কিংবদন্তী শিল্পী মধু রায় (ভাট) চড়িদা থেকে ডুমুরভিতে বসতি স্থাপন করেন। চার-পাঁচটি পরিবার এই গ্রামে মুখোশ শিল্পের সাথে যুক্ত। 'পুরুলিয়া মফস্বল থানা এলাকার ডিমডিহা গ্রামে গেলে আপাতদৃষ্টিতে চড়িয়া গ্রামেরই ছোট সংস্করণ বলে মনে হয়। 


এছাড়া ডিমডিহা সংলগ্ন কালীদাসডিহি গ্রামে একটি পরিবার মুখোশ শিল্পের কাজে যুক্ত।' এছাড়া পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়ায় অজয় সূত্রধর, মিহির সূত্রধর ও বাপী সুত্রধর প্রমুখ মুখোশ শিল্পের কাজ করেন। পুরুলিয়া মফস্বল থানার গেঙ্গাড়া গ্রামে পুজা থানার জামবাদ গ্রামে এবং কেন্দা থানার কোনাপাড়া গ্রামেও ছোয়ের মুখোশ তৈরি হয়।

বিপনন :

চড়িদা গ্রাম মুখোশ শিল্পের মূল কেন্দ্র। গৃহসজ্জার মুর্তিও ওখানে তৈরি হয়। ছৌ-নাচের দলগুলি চড়িদা গ্রাম থেকেই মুখোশ সংগ্রহ করেন। চৈত্রমাস থেকে জ্যৈষ্ঠ এই তিন মাস ছৌ-নাচের সিজন। এ সময় বিক্রির পরিমান বহুগুন বেড়ে যায়। একটি মুখোশে ৫/৬টি নাচ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে ৭/৮টা নাচও করা হয়। পুরুলিয়া জেলার কয়েকশ ছৌ-দল আছে। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বিভিন্ন জেলাগুলি থেকেও চড়িদার মুখোশ কেনা হয়। পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়ায় মুখোশ বিক্রির কয়েকটি দোকান আছে। বৎসরের সব সময় দোকান গুলিতে মুখোশ পাওয়া যায়। 

 ছৌ নাচের ছবি

ব্যবসায়ীরা যারা মেলায় গৃহসজ্জার পাখি, পশু, দেবতার মূর্ত্তি বিক্রি করেন তারা চড়িদা গ্রাম থেকে মূর্ত্তি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় পুরুলিয়ার মুখোশের বিপুল চাহিদা। সাধারণ মানুষ এবং সরকারী দপ্তরগুলি হস্তশিল্প মেলা থেকে মুখোশ সংগ্রহ করেন।


ছৌ নাচের মুখোশ কি দিয়ে তৈরি হয় ?

  মুখোশ তৈরির পদ্ধতি:    

ছৌ-নাচের মুখোশ তৈরির অভিনব পদ্ধতি মুখোশ শিল্পীরা ব্যবহার করেন। 

পদ্ধতি:

(১) যে চরিত্রের মুখোশ তৈরি হবে প্রথমে সেটির ছাঁচ তৈরি করা হয়। নদীর দোয়াশ মাটি দিয়ে একটি কাঠের পাটার উপর ছাঁচটি তৈরি করা হয়। মুখোশের যে ছাঁচ তৈরি হয় পাটাসহ রৌদ্রে সেই ছাঁচটি শুকোতে দিয়ে হয়। পনের-কুড়ি মিনিট রৌদ্রে শুকানোর পর ছাঁচের নাক, চোখ, মুখ বাঁশের থাপি দিয়ে Finishing করতে হয়। 

 

 (২) মুখোশের ছাঁচটি একটু শুকোতো হবে। তারপর কাপড়ের মধ্যে ছাই রেখে সেটি পুটটি করে মুখোশের উপর ঝেড়ে ঝেড়ে ছাই দিতে হবে। এরা এরপর মুখোশের ছাঁচে কাগজ, কাপড়, মাটি, আঠা দিয়ে লাগালে মডেল ছাঁচ থেকে সেটিকে পৃথক করার সময় ঐ ছাই কাজে লাগবে।

 (৩) জলে রুল ময়দা দিয়ে সেটি আঠা তৈরি করতে হবে। আঠা তৈরির সময় সামান্য ভূত মেশাতে হবে। এর ফলে কাগজে পোকা লাগবে না। কাজও মজবুত হয়। তুত মেশানোর জন্য আঠার রঙ নীলাভ হয়। 


 ছৌ-এর মুখোশ তৈরি

ছৌ-এর মুখোশ

(৪) প্রথম দিন তিন চারটি কাগজ মুখোশে সাঁটতে হবে। একদিন রেখে দিতে হবে। কাগজ হবে দু'রকমের। বইয়ের কাগজ-খাতার কাগজ, খবরের কাগজ ব্যবহার হয় না, এটি মোলায়েম হয় না। প্রথমদিনকার সাঁটানো কাগজ একদিন পর পুরো শুকিয়ে যায়। 

(৫) পরদিন আবার কাগজ সাঁটতে হয়। সর্বমোট আট থেকে দশবার কাগজ সাঁটতে হবে। একে 'একপুর' দু-পুর' এইভাবে বলা হয়। 

(৬) মুখোশ তৈরির শুরুর দিন এঁটেল মাটি ছেঁকে জলে দিয়ে ঘোলা করে রাখতে হয়। এই ঘোলা আট দশ দিন রাখতে হবে। যত পুরানো হবে ঘোলাও তত চিট হবে। এঁটেল মাটির ঘোলা জলকে 'কাবিজ' বলে।

 (৭) সুতির কাপড় এঁটেল মাটির খোলার সাথে সাঁটতে হবে। রৌদ্রে শুকিয়ে তারপর পালিশ করতে হয়। ৮/১০টি কাপড় সাঁটতে হয়। 


(৮) চোখ, কান, নাক মসৃণ করতে হয়। নিখুঁতভাবে ঠোঁট, নাক, চোখ, কান ফুটিয়ে তোলা হয়। পালিশ করা হয়। রৌদ্রে শুকোতে দিতে হয়—দু-দিন রৌদ্রে রাখতে হয়। 

(৯) দু-দিন পর ছাঁচ থেকে মুখোশটি পৃথক করতে হয়। মুখোশের অবয়ব এবং নিরেট মাটির মডেলটি সহজেই পৃথক করা যাবে। কারণ পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে ছাই দেওয়ার ফলে কাগজের ও কাপড়ের আস্তরণ দিয়ে তৈরি মুখোশ সহজেই মডেল থেকে উঠে আসবে।

 (১০) এরপর মুখোশের কিনারার কাগজ ও কাপড় কাঁচি দিয়ে কেটে নিতে হবে। আঠা দিয়ে কাগজ সেঁটে কিনারা ভেতরের দিকে মুড়ে মুখোশ উল্টো করে রৌদ্রে শুকোতো দিতে হবে। দু-আড়াই ঘণ্টা রৌদ্রে থাকলে মুখোশ পুরো শুকিয়ে যাবে।

 (১১) তেঁতুলের বীজ সিদ্ধ করে খোসা তুলে সারা রাত ভিজিয়ে সেই আঠা খড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে মুখোশের উপর লাগাতে হবে। আঠা না দিলে মুখোশে খড়িমাটি ভালভাবে লাগবে না। 

(১২) খড়ি মাটি বার বার লাগিয়ে মুখোশ যখন সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যাবে তখন রঙ লাগাতে হবে।

 (১৩) বিভিন্ন মূর্তিতে পৃথক পৃথক রঙ লাগে।



 Purulia chhau dance state         

ছৌ-নাচের মুখোশ এলাকার শিল্পীদের নিজস্ব উদ্ভাবনী বুদ্ধি থেকে তৈরি। গৃহ-সজ্জার ছোট ছোট পুতুল, পাখি ও নানারূপ পশু ইতাদির মূর্তি তৈরীও নিজেদের উদ্ভাবনী বুদ্ধি দিয়ে তৈরি। নকুল চন্দ্র দত্ত, অনিল সূত্রধর এবং অশ্বিনী সূত্রধর—কিংবদন্তী এই মুখোশ শিল্পীদের উদ্ভাবনী শক্তিতে মুখোশ শিল্প বর্ত্তমান অবস্থায় পৌঁচেছে।

 

Q.N.A!


  • একজোড়া মুখোশের মূল্য কত? 
  •   ছৌ নাচ কোথায় বিখ্যাত ?
  • একটি ছৌ দলে বাজনা সহকারী মিলে কত লোক থাকে ?
  • গণেশ, কার্তিক, দুর্গা, র মুখোশের মূল্য কত ?
  • কোথায় সবচেয়ে ভালো মুখোশ তৈরি হয়?





Post a Comment