আদিবাসী কুড়মী সমাজে প্রেস বিগপ্তি তে যা আলোচনা হয়েছে -
গত ১৭/০৪/২০১৩ আদিবাসী কুড়মি সমাজের রাজ্য কমিটির বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এবং সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে ২ দিন ধরে আলোচনার মধ্য দিয়ে যে বিষয়টি উঠে আসে, অরাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে আদিবাসী কুড়মি সমাজ কোনরকম ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকছে না।
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা যেভাবে কুড়মি জাতিকে নিয়ে নিন্দনীয় বক্তব্য পেশ করে চলেছে সেইসব নেতাদের ধিক্কার জানাই। আন্দোলনকে দমানোর জন্য কুড়মি নেতা কর্মীদের উপর যেভাবে দমনপিড়নের রাস্তায় হাঁটছে সরকার তার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গত ৮ জুন যেভাবে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন কুড়মি জাতিকে আদিবাসী তালিকায় অর্ন্তভূক্তির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বন্ধ পালন করলো তাতে সরকারি ইন্ধন রয়েছে বলেই মনে করে। এটা কুড়মি জনজাতির সাংবিধানিক লড়াই, যা হবে সরকারি ভাবেই হবে। এছাড়াও কুড়মি নেতা কর্মীদের অনৈতিক ভাবে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঝাড়গ্রামে গত ৬ জুন আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিবাদ কর্মসূচীতে যেভাবে লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় হাঁটেন, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। প্রত্যেক সমাজকর্মীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
১০ ও ১১ জুন, ২০২৩ আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আদিবাসী কুড়মি সমাজ নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনিত হল—
১) আগামী ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে আদিবাসী কুড়মি সমাজ বর্তমান শাসকদলের তীব্র বিরোধীতা করছে। কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করবে না। এছাড়াও বিগত রাজ্য কমিটির মিটিং-এ কুড়মি আন্দোলন নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছিল কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলই এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। এই পরিপ্রক্ষিতে আদিবাসী কুড়মি সমাজ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে- আগামী ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে আদিবাসী কুড়মি সমাজ কোন রাজনৈতিক দলের প্রতীকে ভোট দিচ্ছে না। তবে ভোট বয়কট নয়। কর্মীরা নিজেদের মতো করে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
২) আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আদিবাসী কুড়মি সমাজ নেতৃত্ব সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে না। কোন সমাজ নেতৃত্ব কোন রাজনৈতিক মিটিং মিছিলে অংশ নেবে না। তবে নিজেদের সামাজিক মিটিং-এ কুড়মি আন্দোলন নিয়ে রাজ্য সরকারের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে সরব হবেন।
৩) কুড়মিদের দেওয়ালে রাজনৈতিক দলের প্রচার প্রসার করতে দেওয়া চলবে না।
৪) যথারিতিভাবে ঝান্ডা গাড়া কর্মসূচী এবং অনৈতিকভাবে কুড়মি নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গ্রামে গ্রামে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল চলবে।
৫) কুড়মি জনজাতির মানুষজনকে তাদের হক অধিকার নিয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে শুরু হচ্ছে 'গড়ি জাগান-গড়ি সাড়ান'
৬) 'কুটুম কুটমারি ভাইআদি জিআউ' ও 'হিতমিতান নাতাজড়ন হামদুমি' কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে সমাজের নেতাকর্মী থেকে শুরু। করে কুড়মি জনজাতির সঙ্গে বসবাসকারী অন্যান্য হিত মিতান গোষ্ঠী গুলোর সঙ্গে কুড়মিদের দাবীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলবে।
৭) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক হিসাবে সর্বসম্মতিক্রমে বিজয় মাহাতকে নির্বাচিত করা হল।
সর্ব্বোপরি আদিবাসী কুড়মি সমাজ আন্দোলন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে কুড়মি জনজাতির হক অধিকার আদায়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সমস্ত কুড়মি নামধারী সমাজ সংগঠনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।
Adibasi Kudmi Samaj এর বিষের বিগপ্তি।
আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচী:---
১.কুড়মি আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে ও CRI কমেন্টস ও জাস্টিফিকেশন পাঠাতে হবে, অন্যথায় কুড়মি জনজাতির মানুষ আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলকে ভোট নয়।
২.কুড়মি জনজাতির সাংবিধানিক অধিকারের লাগাতার বিরোধ একটি বিশেষ জনজাতি সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থীকে আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দেবে না কুড়মি জনজাতির মানুষ।
এছাড়াও তাদের এই আমাদের অনৈতিক অধিকার বিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমাদের কুড়মি জনজাতির মানুষ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে ।
৩.কুড়মি গ্রাম কুড়মি জনজাতির অধিকারের জন্যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সফল গ্রাম জনজাগরন করে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করা হবে
৪.কুড়মি অধিকার আন্দোলনের সাহায্যার্থে তহবিলের জন্য আগামী ১১ ই জুন চার জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু হবে কূপের মাধ্যমে।
৫.আমরা আমাদের কুড়মি জনজাতির অধিকার আন্দোলনকে কেন্দ্ৰ করে দেখেছি অনেকে রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি সমর্থন করেনি এবং মরদ ছুঁড়া কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কিছু কুড়মি জনজাতির মানুষ দলত্যাগ করতে বাধ্য হয় তার অধিকারের পক্ষে, তাই এই ত্রিস্তর নির্বাচনে কুড়মি জনজাতির মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং সর্বত্র অধিকার আন্দোলনকে শক্তিশালী করবে।