Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

Search Suggest

Open up

কুড়মীদের আন্দোলনে সাঁওতালদের বিরোধিতা

কুড়মীদের আন্দোলনে সাঁওতালদের বিরোধিতা ,CRI রিপোর্ট পাঠায়নি,

 কুড়মীদের আন্দোলন ও সাঁওতাল  সরাসরি কুড়মীদের বিরোধিতা--কেন? 


   জঙ্গলমহলের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠী কুড়মীরা তাদের আত্মপরিচিতি ফেরত পেতে আন্দোলনে নেমেছে।এই আন্দোলনের ব্যাপকতা ,তীব্রতা বুঝতে হলে  খেমাশুলিতে আসতে হবে।

 কুড়মীদের দাবী রাজ্য সরকার যথাযথ নিয়ম মেনে কেন্দ্র সরকারের কাছে CRI রিপোর্ট পাঠায়নি।

CRI হচ্ছে কালচারাল রিসার্চ ইন্সটিটউট। এই সংস্থার রিপোর্টের উপর রাজ্য সরকারের যথাযথ CMMENT,JUSTIFICATION  লিখিত থাকতে হবে।রাজ্য সরকার ঠিক এই খানটিতে কুড়মীদের সাথে মিথ্যাচার করেছে।তারা শুধু CRI REPORT টাই পাঠিয়ে দিয়েছে।কিন্তু রাজ্য সরকারের মতামত ছাড়া এই রিপোর্ট কেন্দ্রে কাছে গ্রহনযোগ্য নয়।কেন্দ্র সরকার রাজ্য সরকারের মতামত লিখিত চাইলেও তারা সেটা পাঠাচ্ছে না।

   এবার দেখা যাক যারা কুড়মীদের দাবীর বিরোধিতা করছে সাঁওতালদের সেই সারা ভারত জাকাত মাঝি মাড়োয়া সংগঠনের কীর্তি। রাজ্য সরকারের প্রশাসন ও শাসকদলের প্রত্যক্ষ মদত ও কথামতো তারা কুড়মীদের প্রকাশ্য বিরোধিতা করতে রাস্তায় নেমেছে। যা চিরাচরিত কুড়মী,সাঁওতালদের মাঝে অবিশ্বাস,বিদ্বেষ ছড়িয়ে জঙ্গলমহলকে অশান্ত করতে এক নোংরা অপচেষ্টা মাত্র।

 এই জাকাত দলের সর্বোচ্চ নেতা কারা ?


তাদের অবস্থান কোথায়? 

জাকাতের সর্বোচ্চ নেতা রবীন টুডু,নিত্যানন্দ হেমব্রম কিন্তু আজ রাজ্য সরকারের বড় পদে বসে আছেন।রবীন টুডুর স্ত্রী বীরবাহা সরেন টুডু তূণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান,গত লোকসভার তৃণমূলের প্রার্থী।জাকাতের শীর্ষ নেতা এই রবীন টুডু চিরকাল অকারনে তীব্র কুড়মী বিরোধি,এবং প্রকাশ্যে কুড়মী বিরোধি কথার জন্য কুখ্যাত। ওকে দলে টেনে তৃণমূল সাঁওতাল ভোট পেতে ওর স্ত্রীকে লোকসভার টিকিট দেয় তৃণমূল।কিন্তু গত লোকসভা ভোটের আগে তার নানান কুড়মী বিরোধি বক্তব্য ভাইরাল হয়ে যায়।আর যেহেতু ঝাড়গ্রাম লোকসভা এলাকায় কুড়মী ভোটার সংখ্যা গরিষ্ঠ তাই কুড়মীরা বীরবাহা সরেনকে হারাতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং তৃণমূলের 4 লাখ ভোটের ব্যবধান মুছে ফেলে তাকে হারাতে সফল হয়।এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে জাকাত নেতা রবীন টুডু তার সারা ভারত জাকাত সংগঠনকে কুড়মীদের বিরোধিতায় সর্বতোভাবে নামানোর চেষ্টা করে চলেছে।আর রাজ্য সরকার তাকে পুরষ্কার স্বরূপ বড় সরকারি পদে বসিয়েছেন।শুধু কি তাই নীচের দিকে মেজো,সেজো জাকাত নেতারারাও তৃণমূলের নানান কমিটিতে আলো ছড়াচ্ছেন। তাই দুইয়ে দুইয়ে চার হতে অসুবিধা নেই।কুড়মীদের আন্দোলন ঠেকাতে রাজ্য সরকার তাদের কুনকি হাতির দল জাকাত নেতাদের নামিয়ে দিয়েছে কুড়মীদের প্রকাশ্য বিরোধিতা করতে।

    জাকাত নেতাদের বক্তব্য কুড়মীরা ST হলে সংরক্ষনের সব সুবিধা কুড়মীরাই দখল করবে। কারন কুড়মীরা সব ক্ষেত্রে সাঁওতালদের থেকে এগিয়ে।

   আর এই মত সচতুরভাবে প্রচার করে তারা সিপিআইএমের শাখা সংগঠন আদিবাসী অধিকার মন্ঞ্চের নেতাদেরো তাদের পক্ষে রাস্তায় নামাতে সফল।সরাসরি সিপিআইএমের বড় পদে থাকা নেতাদের তারা ফাঁদে ফেলে দিয়ে সিপিআইএমকেও কুড়মী বিরোধি বলে প্রচার করছে।মমতার সরকারের ষড়যন্ত্রে এতে তারা সফল।এভাবেই জাকাত নেতারা নিজেদের শক্তিমান ভেবে কুড়মীদের আন্দোলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে  কুড়মীদের নানা কুরুচিকর মন্তব্য করছেন।যা আজ জঙ্গলমহলের সামাজিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলেছে।

     এবিষয়ে কুড়মীদের স্পষ্ট মত হলো তাদের দাবীটা সরকারের কাছে।সরকার বিচার করবে তাদের দাবীর নায্যতা আছে কি না।এখানে  অন্য দল বা সংগঠন ছাগলের তিন নম্বরের মতো অহেতুক লাফানোর কারন নেই।

   কুড়মীরা তাদের IDENTITY, CULTURE,LANGUAGE এর স্বীকৃতি দাবী করছে।তারা সংরক্ষনের দাবী করেনি।

   কুড়মীরা তাদের দাবীর পক্ষে জনমত সংগঠিত করতে অন্য কোন জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কখনো কোনো মন্তব্য করেনি,অপ্রীতিকর তো নয়ই।

     তাই কুড়মীদের প্রতি লাগাতার কুমন্তব্য করে জঙ্গলমহলে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর দায় সারা ভারত জাকাত সংগঠনের ও তাদের মদতকারি প্রশাসনের।

     মনে রাখবেন কুড়মীরা আজকের দিনে অনেক বেশী সংগঠিত।তারা কেন তাদের প্রতি প্রকশ্য একতরফা কুরুচিকর মন্তব্য মেনে নেবে। এরপর যদি তারা সংগঠিত ভাবে সামনা সামনি প্রতিবাদ করে সেটা তাদের অপরাধ হতে পারে না।

  তাই অবিলম্বে কুড়মীদের আন্দোলনের বিরোধিতার নামে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জঙ্গলমহলের পরিবেশ বিষাক্ত অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।তা না হলে কুড়মীরাও বসে থাকবে না। এর দায় কিন্তু ঐ অপপ্রচারকারীদের ও তার মদতদাতা সরকার প্রশাসনের।এই বক্তব্য সামনে রেখে ঝাড়গ্রাম জেলা শাসককে ইতিমধ্যেই কুড়মী সংগঠন ডেপুটেশন দিয়ে সতর্ক করেছেন।

 

Post a Comment