প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা কি ?
এই যোজনাটি পূর্বের দুটি যোজনা যথাক্রমে ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ইন্স্যুরেন্স স্কিম (NAIS)’ এবং ‘মডিফাইড ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ইন্স্যুরেন্স স্কিম (MNAIS)’ কে প্রতিস্থাপন করেছে তার অন্যতম কারনগুলি হোল ফসল বীমা যোজনার কিস্তির পরিমাণ অনেক কম এবং আগের যোজনাগুলিতে সরকারী ভর্তুকিতে ক্যাপিং ছিল যা এখন সরানো হয়েছে তাই বর্তমান যোজনায় কৃষক কোন ঘাটতি ছাড়াই দাবিকৃত পরিমাণ সম্পূর্ণটাই পাবেন।
ভারত সরকার এই যোজনায় ৮,৮০০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি স্তরের কৃষকদের কথা মাথায় রেখে ফসল বীমার প্রিমিয়ামের পরিমাণ খুবই কম রাখা হয়েছে, যা কৃষকরা সহজেই পরিশোধ করতে পারবেন।
কৃষকদের খরিফ ফসলের জন্য শুধুমাত্র ২% এবং রবি শস্যের জন্য ১.৫% প্রিমিয়াম দিতে হবে। এই স্কিমটি শুধুমাত্র খরিফ এবং রবি ফসলের জন্য নয়, বাণিজ্যিক এবং উদ্যান ফসলের জন্যও সুরক্ষা প্রদান করে। বাণিজ্যিক এবং উদ্যান ফসলের জন্য কৃষকদের ৫% প্রিমিয়াম (কিস্তি) দিতে হয়। এই সমস্ত কারনে যোজনাটি শুরুর প্রথম বছর থেকেই অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ২০২১ সালের অগাস্ট মাসের শেষ রিপোর্ট অনুযায়ী ৬ কোটির বেশী কৃষক এই বীমা করিয়েছেন।
তবে মনে রাখতে হবে যে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন শিলাবৃষ্টি, খরা, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কভারেজ প্রদান করে। যদি অন্য কোনো কারণে ফসলের ক্ষতি হয় সেক্ষেত্রে বীমাকৃত অর্থ পাওয়া যাবে না।
এই বীমার মাধ্যমে ফসল চাষে ঝুঁকির পরিমাণ অনেকাংশেই কমান সম্ভব হয়েছে। কৃষকেরা কম ঝুঁকির কারনে কৃষিকাজে উৎসাহিত বোধ করছেন এবং খরা ও বন্যার কারণে কৃষকের আত্মহত্যার সংখ্যাও কমেছে ও ফলস্বরূপ ভারতের মোট উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার উদ্দেশ্য
এই যোজনার মূল উদ্দেশ্যগুলি নিচে বর্ণনা করা হলঃ
- ফসল বীমা যোজনার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
- কৃষকদের যতটা সম্ভব ক্ষতি পূরণের মাধ্যমে তাদের আয় স্থিতিশীল করা এবং কৃষি কাজে উৎসাহিত করা।
- কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করা।
- এই যোজনার মাধ্যমে উৎপাদনের ঝুঁকি থেকে কৃষকদের রক্ষা করা অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে এবং শস্য বৈচিত্র্য বজায় রাখা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার বৈশিষ্ট
এই যোজনার বৈশিষ্টগুলি নিচে উল্লেখ করা হলঃ
- এই বীমার আওতায় সব ধরনের ফসল যেমন রবি, খরিফ, বাণিজ্যিক ও উদ্যানজাত ফসলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কৃষকদের সুবিধার জন্য বীমার প্রিমিয়াম (কিস্তি) খুব কম রাখা হয়েছে যাতে সকল স্তরের কৃষকরা সহজেই ফসল বীমার সুবিধা নিতে পারেন।
- রবি শস্য যেমন গম, যব, ছোলা, মসুর, সরিষা ইত্যাদির জন্য শুধুমাত্র ১.৫% প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে।
খরিফ ফসল যেমন ধান বা চাল, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, আখ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ২% প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে।
বাণিজ্যিক এবং উদ্যান ফসলের জন্য বার্ষিক ৫% প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ফসলের বপন থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত ক্ষতির ঝুঁকি বহন করে থাকে। এই বীমা অপ্রতিরোধযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, প্লাবন, রোগের আক্রমণ, ভূমিধস, ঝড়, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি বা দাবানলের মত প্রাকৃতিক আগুনের কারণে ফলনের ক্ষতির ঝুঁকি বহন করে।
বীমাকৃত এলাকায় কৃষক যদি কম বৃষ্টিপাত বা প্রতিকূল জলবায়ু অথবা মৌসুমী অবস্থার কারণে বপন বা অংকুরোদগম অথবা রোপণ করতে না পারেন, তাহলে বীমাকৃত ফসল ক্ষতিপূরণ দাবির জন্য যোগ্য মানা হবে।
- যদি ফসল ফলনের সময় প্রতিকূল মৌসুমী অবস্থার কারণে ক্ষতি হয় যেমন দীর্ঘায়িত শুষ্কতা, বন্যা বা তীব্র খরা ইত্যাদির জন্য ফলন স্বাভাবিক ফলনের ৫০% এর কম হয়, তাহলে বীমাকৃত কৃষকদের অবিলম্বে ত্রাণ প্রদান করা হয়।
- শিলাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং ল্যান্ড স্লাইডের মতো দুর্যোগগুলিকে স্থানীয় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত করা হবে। পুরানো স্কিমগুলির ক্ষেত্রে, যদি কৃষকের ক্ষেত জলে ডুবে থাকে তবে কৃষকের প্রাপ্ত দাবির পরিমাণ নির্ভর করতো বীমার ইউনিট (গ্রাম বা গ্রামের গোষ্ঠীতে মোট ক্ষতি) কত তার ওপর। এ কারণে অনেক সময় নদীর তীরে অবস্থিত ক্ষেত বা নিচু জমিতে ক্ষতি হলেও দাবির পরিমাণ পাননি কৃষকরা। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় এই নীতির পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এটিকে স্থানীয় ক্ষতি হিসাবে বিবেচনা করে শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সমীক্ষা করা হবে এবং তাদের দাবির পরিমাণ দেওয়া হবে।
- প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় ফলন-পরবর্তী ক্ষতির কভারেজ পাওয়া যায়। যদি ফসল কাটার দুই সপ্তাহের মধ্যে ফসল শুকানো বা প্রয়োজন অনুযায়ী কাটা অথবা ছোট বান্ডিল অবস্থায় ক্ষেতে থাকে এবং সেই সময়ে ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অমৌসুমি বৃষ্টির মত কোনও বিপর্যয় ঘটে, তবে কৃষকরা বীমার দাবি করতে পারবেন। এই সমস্ত কাজের জন্য এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে ফসলের ক্ষতি নির্ণয় দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে করা যায় এবং কৃষকরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ফর্ম ফিলাপ
PMFBY-এর জন্য অনলাইন এবং অফলাইন উভয় ভাবেই আবেদন করা যায়। অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলঃ
অনলাইন আবেদন করার জন্য আপনাকে PMFBY এর অফিসিয়াল সাইটে যেতে হবে এবং ‘ফার্মার কর্নার’ এ ক্লিক করতে হবে অথবা সরাসরি ফর্মের লিঙ্ক পেতে ক্লিক করুন প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ফর্ম।
আপনাকে ‘রেজিস্টার ফর নিউ ফার্মার ইউসার’ ফর্মটি পূরণ করতে হবে যেখানে কৃষকের বিশদ বিবরণ, আবাসিক বিবরণ, ফার্মার আইডি এবং অ্যাকাউন্টের বিবরণ উল্লেখ করতে হবে।
সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর নিচে একটি ক্যাপচা আসবে এরপর নিচে ‘Create User ক্লিক করার পর ফর্মটি সাবমিট হবে এবং অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের কাজটি সম্পন্ন হবে।
আপনার নিউ ফার্মার ইউসার রেজিস্ট্রেশনের পর আপনি প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং তার জন্য আপনি ‘ফার্মার কর্নার’ থেকে লগইন করতে পারেন অথবা ওপরের মেনু থেকে ‘সিএসসি লগইন’ করতেও পারেন।
pradhanmantri fasal bima yojana official site
pradhanmantri fasal bima yojana csc login
আপনার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ‘সাইন ইন’ করার পর আপনাকে রাজ্য ও কোন বছরের এবং কি ধরনের ফসল (খরিফ/রবি) ও সাথে যোজনার নাম সিলেক্ট করে সাবমিট করতে হবে।
pradhanmantri fasal bima yojana select season
এরপর ‘এপ্লিকেশন’ এ ক্লিক করে ‘সিএসসি এপ্লিকেশন’ পেজে আসতে হবে যেখানে আপনি আবেদন সম্পর্কীয় যাবতীয় তথ্য পাবেন।
নতুন আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনাকে ‘এপ্লিকেশন ফর্ম’ এ ক্লিক করতে হবে।
pradhanmantri fasal bima yojana online farmer application form
এপ্লিকেশন ফর্মে যথাক্রমে আপনাকে ব্যাঙ্কের তথ্য, কৃষকের বিবরণ ও ফসলের বিবরণ যথাযত ভাবে পূরণ করে ‘মেক পেমেন্ট’ এর মাধ্যমে বীমার আবেদনের টাকা প্রদান করলেই কাজটি সম্পন্ন হবে।
PMFBY-এর জন্য অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটি হোল নিম্নরূপঃ
কৃষকদের বীমা কোম্পানিতে যেতে হবে এবং ‘ফসল বীমা প্রকল্প’ আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।
আবেদন ফর্ম পূরণ করার সাথে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। আবেদনের অবস্থা যাচাই করার জন্য আবেদনের একটি রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হবে।