Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

Search Suggest

Open up

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে gk Questions Bengali

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান gk Questions, পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান, সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান, বস্কা জাতীয় উদ্যান, গরুমারা উদ্যান, জলদাপাড়া পার্ক,

 

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে জানবো!



১. সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান

সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার একটি জাতীয় উদ্যান, ব্যাঘ্র প্রকল্প ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। বৃহত্তর সুন্দরবন সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে অখণ্ড বন যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ। অববাহিকার সমুদ্রমুখী সীমানা এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত।


১৯৮৪ সালের ৪ মে'তে এটি জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষিত হয়। ১৯৮৭ সালে (ix) এবং (x) শ্রেণীতে প্রাকৃতিক সম্পত্তি হিসাবে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে ঘোষিত হয়। এখানকার সজনেখালিতে, লুথিয়ান দ্বীপে ও হ্যালিডে দ্বীপে বর্তমানে আরও তিনটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। এছাড়া, পাথরপ্রতিমার কাছে ভরতপুর কুমির প্রকল্প এবং সজনেখালিতে পাখিরালয় রয়েছে। ১৯৮৯

সালে সুন্দরবনের এই ভারতীয় অংশকে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সুন্দরবন কে রামশার সাইটের তালিকা তে স্থান দেওয়া হয়েছে।


২. বক্সা জাতীয় উদ্যান

বক্সা জাতীয় উদ্যান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। এটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিকে বক্সা পাহাড় এলাকায় অবস্থিত। জাতীয় উদ্যানের আয়তন প্রায় ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার। জাতীয় উদ্যানের মধ্যে একটি বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্র বা টাইগার রিজার্ভ রয়েছে। এই জাতীয় উদ্যানে বাঘ, সিভেট ও রেড জাঙ্গল ফাউল দেখা যায়।

১৯৮৩ সালে দেশের ১৫শ টাইগার রিজার্ভ হিসেবে বক্সা টাইগার রিজার্ভ স্থাপিত হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩১৪.৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বক্সা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য স্থাপিত হয়। ১৯৯১ সালে, আরও ৫৪.৪৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বক্সা বন্যপ্ৰাণী অভয়ারণ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। এক বছর বাদে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটিকে জাতীয় উদ্যান স্তরে উন্নীত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং আরও ১১৭.১০ বর্গ কিলোমিটার বনাঞ্চল এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৯৯৭ সালে রাজ্য সরকার বক্সাকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে।


৩. গোরুমারা জাতীয় উদ্যান

গোরুমারা জাতীয় উদ্যান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের জলদাপাড়া-চাপড়ামারি-গোরুমারা রেঞ্জের অন্তর্গত এই জাতীয় উদ্যান। এই বনভূমির আয়তন প্রায় ১,৩০০ বর্গকিলোমিটার। গোরুমারায় হাতি, গণ্ডার, গউর, হরিণ, বুনো শুয়োর, ময়ূর প্রভৃতি পশুপাখি রয়েছে। বনের প্রান্তদেশে রাভা, রাজবংশী, মেচ, কোঁচ, ওঁরাও, মুন্ডা ও টোটো উপজাতি বাস করে। গোরুমারার মধ্য দিয়ে তিস্তা, তোর্সা, মালঙ্গী, জলঢাকা, রায়ডাক, সঙ্কোষ, মূর্তি, কালজানি প্রভৃতি নদনদী প্রবাহিত। গোরুমারায় শাল, সেগুন, শিমুল, পলাশ, বহেড়া, পিপল প্রভৃতি গাছ দেখা যায়। 

১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি এটি ভারতীয় জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষিত হয়। যদিও এর মূল এলাকার আয়তন প্রাথমিকভাবে ৭ বর্গ কিলোমিটার ছিল, চারপাশে এর বিস্তৃতি ঘটিয়ে একে ৮০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত স্থান দেয়া হয়।


৪. জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান (আগে ছিল জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য) পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। সমুদ্রপৃষ্ঠ ৬১ মিটার উচ্চতায় তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যের সামগ্রিক আয়তন ১৪১ বর্গ কিলোমিটার। জলদাপাড়া মূলত নদীকেন্দ্রিক বনাঞ্চলময় একটি সুবিস্তৃত তৃণভূমি। জৈব ও উদ্ভিজ্জ প্রকৃতির বৈচিত্রময় সমাবেশ দেখা যায় এই অভয়ারণ্যে। এগুলির মধ্যে অবলুপ্তপ্রায় একশৃঙ্গ গণ্ডার বিশেষভাবে উল্লেখ্য।

১০ মে, ২০১৪ তারিখে জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে "জাতীয় উদ্যান" ঘোষণা করা হয়েছে।



৫. নেওড়া উপত্যকা জাতীয় উদ্যান

নেওড়া উপত্যকা জাতীয় উদ্যান হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। ১৯৮৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকারিভাবে ঘোষিত হয় এই জাতীয় উদ্যান।

এই জাতীয় উদ্যানে খয়ের, শিশু, শিরীষ প্রভৃতি বৃক্ষ দেখা যায়। প্রাণীর ভেতরে দেখা যায় বাংলা বাঘ, চিতাবাঘ, বনবিড়াল ও কালো ভাল্লুক, কাঠবিড়ালি, লাল পাণ্ডা, দেশি বনরুই, সম্বর হরিণ, গোরাল, বন ছাগল বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ইত্যাদি।


৬. সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান

সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে নেপাল পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের সীমান্তে এই জাতীয় উদ্যানের অবস্থিতি। ১৯৯২ তারিখে সিঙ্গালীলাকে "জাতীয় উদ্যান" ঘোষণা করা হয়েছে। 

এই জাতীয় উদ্যানে ওক, হেমলক, রূপালি দেবদারু, রূপালি ফার জাতীয় গাছ, বার্চ প্রভৃতি বৃক্ষ দেখা যায়। প্রাণীর ভেতরে দেখা যায় red panda সোনালী বিড়াল, বনবিড়াল ও কালো ভাল্লুক

জাতীয় উদ্যান হলো এমন স্বাভাবিক বা মনুষ্যনির্মিত বনাঞ্চল, যেখানে বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের প্রজনন ও আবাস নিরাপদ রাখতে শিকারিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সাধারণত বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ পরিবেশ, তাদের স্বাভাবিক কিংবা বর্ধিত প্রজনন পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক সংখ্যা এবং বৃক্ষরাজি কিংবা ঔষধি বৃক্ষরাজির নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার কিংবা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬টি জাতীয় উদ্যান রয়েছে। আজ পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান তালিকা টি সহজ উপায়ে উপস্থাপন করলাম।


Post a Comment