যদি আপনি পড়াশোনা করছেন বা পড়ার অনেক ইচ্ছে আছে এবং আপনি পড়ছেন এবং সবকিছু যেন এলোমেলো ভাবে ভুলে যাচ্ছেন এই পড়াগুলো কিভাবে মনে রাখতে হয় সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক থেকে কিছু উপায় পেয়েছি যে আপনাকে পড়া মুখস্ত রাখতে সাহায্য করবে।
পড়া মনে রাখার পাঁচটি বৈজ্ঞানিক উপায় যা আপনাকে মুখস্ত রাখতে অনেক সাহায্য করবে সেই উপায় গুলি জানার জন্য পুরো তথ্যগুলি পড়ুন এবং এগুলি প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন।
১. বিরতি নিয়ে রিভিশন
জার্মান মনোবিদ হারমান এবিনঘসের মতে, কোনো কিছু পড়ার এক ঘণ্টা পর সেটির মাত্র ৪৪ শতাংশ আমাদের মনে থাকে। তাই আমাদের উচিত তাৎক্ষণিক রিভিশন না দিয়ে, একটু বিরতি দিয়ে একই বিষয় আবার পড়া। তাতে পড়া মনে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিরতি দিয়ে বারবার পড়লে যে কোনো পড়াই মনে থাকে অনেক দিন। এভাবে পড়াশোনা করলে আপনার বেশ একটা মজা হবে এর মধ্যে আপনার আনন্দ খুঁজে পাবেন। একই রকম পড়াশোনা করলে আমাদের একটু বোরিং টাইপের লাগে তাই অত সহজে আমাদের পড়া গুলো মুখস্ত হয় না বা মনে থাকে না সেজন্য একটু একটু বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করলে সেগুলো আমাদের বেশিরভাগই মনে থাকে।
২. ফাইনম্যান পদ্ধতি কিভাবে করবেন
পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। কোনো কিছু খুব সহজভাবে অন্যকে বোঝানোর পদ্ধতিকে ফাইনম্যান পদ্ধতি বলা হয়। যে কোনো কিছু পড়ার পর তা অন্য কাউকে শেখানোর চেষ্টা করলে সেই পড়া আপনার মনে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায় কয়েক গুণ কোনো কিছু শেখানোর সময় আপনাকে সেই পড়াটি নিজের মতো গুছিয়ে সংক্ষেপ করে নিতে হয়; করতে হয় আলোচনাও। যা পড়াটি আপনার মাথায় গেঁথে যাওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা রাখে। বা আপনি একটা ছোট্ট টিউশনও পড়াতে পারেন যে আপনি যেগুলো শিখবেন সেগুলো তাদের কাছে প্রকাশ করবেন এটা আরো ভালো মনে থাকার উপায় এর মধ্যে আপনি যেগুলো একটু না জানা থাকে সেগুলো জেনে যাবেন আর এর মধ্যে আপনি অন্যদেরকেও শিখাতে পারবেন।
৩. পোমোডোরো পদ্ধতি পড়াশোনার মাঝখানে মুঠোফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক,
ইউটিউবে টু দেওয়া কিংবা অন্যমনষ্ক হয়ে যাওয়া আমাদের এক নিত্য সমস্যা। যার ফলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং পড়া ঠিকমতো না হওয়ায় তা মনে থাকার সম্ভাবনাও বেশ কমে যায়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পোমোডোরো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এটি মূলত সময় ব্যবস্থাপনার একটি কৌশল। ১৯৮০ সালের শেষের দিকে ফ্র্যাঞ্চেঙ্কো নামের এক উদ্যোক্তা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ইতালীয় শব্দ পমোভোরো অর্থ 'টমেটো সস'। ফ্র্যাঞ্চোের টমেটোর আকারের টেবিল ঘড়ি থেকেই মূলত এর নামকরণ। এই পদ্ধতিতে একজন মানুষ মোট ২৫ মিনিট সময় নিয়ে কোনো একটি কাজ করবেন এবং কাজ শেষে ৫ মিনিটের বিরতি নেবেন। ওই পঁচিশ মিনিট নিজেকে অন্য সবকিছু থেকে দূরে রাখতে হবে। আর বিরতির পাঁচ মিনিটকে বেছে নিতে হবে অন্য যে কোনো কাজ কিংবা বিশ্রামের জন্য। এতে করে মূল কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে, কাজের প্রভাবও বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এই পদ্ধতি পড়াশোনায় প্রয়োগ করলে পড়া হবে আরও কার্যকর, আর মনেও থাকবে লম্বা সময় পর্যন্ত। এরকমভাবে আরো অনেক কিছু পড়াশোনা করতে পারবেন।
৪. প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম
যুক্তরাষ্ট্রের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী জেসিকা পেইন এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মিলে একটি গবেষণা করেছেন। তাতে জানা যায়, পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট সময় ঘুমালে তা পড়া মনে রাখায় বেশ সহায়তা করে। তাই লম্বা সময় পড়াশোনার পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই। যাঁরা সারা রাত জেগে সকালে পরীক্ষা দিতে অভ্যন্ত, অনেক সময় দেখা যায় তাঁদের পরীক্ষা খারাপ হয়। এ গবেষণা থেকে নিশ্চয়ই এর কারণ বোঝা যায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন হয়তো 6 থেকে 7 ঘন্টা বা ৬ ঘন্টা অত্যন্ত ঘুমাবেন ঘুমাবেনি এর থেকে মেজাজ অত্যন্ত শীতল এবং ঠান্ডা থাকে যা সব কাছেই ভালোভাবে করতে পারবেন।
৫. নেমোনিক পদ্ধতি কিভাবে করবেন
অনেক ছোট তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। ছড়া, গল্প, ছবি, ইত্যাদির মধ্যে তথ্য যুক্ত করে মনে রাখাকে আরও সহজ করাই হচ্ছে এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য। মূলত ভোকাবুলারি, বিভিন্ন সাল কিংবা যে কোনো ছোট তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে এই কৌশল হয়ে উঠতে পারে বেশ কার্যকর। এভাবে গল্পের আকার এক কিংবা ছবি প্রকাশ করে নিজে কল্পনা করে করে পড়লে আরো বেশ মনে রাখে এটা অত সহজে ভুলানো সম্ভব না এভাবে অনেকেই মুখস্ত করার পদক্ষেপ বেছে নিয়েছে এটাই মুখস্ত করার বেস্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এর থেকে বোঝাও যাবে যে আপনার মানসিক চিন্তাধারা এবং আপনি কিভাবে ছবি প্রকাশ করতে পারেন প্রকাশ করার একটি নিয়ম হচ্ছে আপনি চোখ বন্ধ করে যেটা কল্পনা করবেন সেটা যেন আপনার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেটা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি কিভাবে কল্পনা করতে পারছেন বা কতটুকু আকারে সাজাতে পারছেন ।
আমরা অনেক বার দেখেছি যেগুলি আমরা সিনেমার মধ্যে বা ফিল্মের মধ্যে দেখেছি বা সময়কালীন কোন ঘটনা দেখেছি সেগুলা বেশিরভাগ মনে থাকে এগুলো সহজে ভোলানো যায় না ঠিক একই ভাবে আমরা যদি কোন পড়া বা সেই বিষয়টাকে নিয়ে একটু কল্পনা করে করে করি বা সেটাকে আমরা সাজানোর চেষ্টা করে পরে সেটা একটু বেশি মনে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- যেগুলি একদমি করবেন না
মনে রাখবেন পড়াশোনা করার সময় যেন আপনার হাতে ফোন ল্যাপটপ বা ইলেকট্রিক তথ্য না থাকে শুধু আপনার প্রোডাক্ট টেবিলের শুধু যে বইটা পড়বেন সে বইটি আরেকটি খাতা যেন পাশে থাকে তাছাড়া তার জন্য কিছু থাকে না আর হ্যাঁ একটি জলের বোতল অবশ্যই রাখবেন পড়াশোনার মাঝে মাঝে যদি জল পান করেন সেটা আপনার আপনার মস্তিষ্ককে ঠান্ডা করে মুখস্ত করতে পারবেন। করার পড়াশোনা করার পর পাঁচ মিনিট পর্যন্ত ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে। আপনি পড়ার আগে ফোন ফ্লাইট মোড বা সুইচ অফ করে রেখে দিবেন।
- বাইরের দিকে কোনভাবে যোগাযোগ করবেন না।
- বাইরের গোলমাল থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
- আপনি যেটা টার্গেট করবেন সেটা মিস করবেন না।
- প্রতিদিন অত্যন্ত দুই থেকে তিন ঘন্টা অবশ্যই পড়ুন।
পড়াশুনা করার সঠিক সময়:
পড়াশোনা করার সঠিক সময় কি আপনারা কেউ কি জানেন কেউ বলে সকালে পড়বেন কেউ বলে ভোর চারটার সময় উঠে কোন পড়তে বসবেন কে বলে রাত্রে পড়বেন কেউ বলে বিকালবেলা পড়বেন কেউ বলেন দুপুরবেলা পড়বেন এগুলো কি আসলেই ঠিক যদি আপনি ঠিক ভেবে থাকেন তাহলে ভুল ভাবছেন। আপনাকে দেখতে হবে আপনি কোন সময় পড়াশোনা করলে আপনার বেশি মনোযোগ হয় আপনি সে সময় পড়াশোনা করুন। হয়তো রাত একটা হোক বা সকাল ছটা হোক বা দুপুর দুটো হোক আপনি সে সময় পড়াশোনা করুন। লোকেদের বা অন্যদের টাইম টেবিল নিয়ম ফলো করা একদমই ঠিক নয় আপনি একটি নিচের রুটিন তৈরি করুন এবং সেটা ফলো করে আপনি পড়তে পারেন। আর হ্যাঁ পড়াশোনা মনে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে আপনি শরীর চর্চা করুন। নিয়ম করে প্রতিদিন একটু আধটু ব্যায়াম করুন। এর ফলে আপনার বুদ্ধি আরো বিকিরণ হয়।
খেলাধূলা পড়াশুনার ক্ষেত্রে কি প্রয়োজন :
যদি আপনি বলেন যে খেলাধুলা পড়াশোনার জন্য কি প্রয়োজন তাহলে আমি বলব হ্যাঁ প্রয়োজন । খেলাধুলা করলে আমাদের আমাদের মাথা ঠিক থাকে যদি বলবেন চাইলে আপনি ক্রিকেট ফুটবল বা অন্যান্য কিছু খেলতে পারেন । খেলাধুলা কোন খারাপ জিনিস নয় এতে আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত করে তোলে । আর পড়াশোনার ক্ষেত্রে এটা খুব জরুরী যে মানসিকভাবে শক্ত থাকা । আর এটা শুধুমাত্র খেলাধুলা বা ব্যায়াম এর মধ্যেই পাওয়া যায়।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া কি খারাপ:
যদি আপনি বলেন যে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া কি খারাপ তাহলে আমি বলব না অবশ্যই না খারাপ হচ্ছে অতিরিক্ত যাতে না হয় আমরা যে কোন জিনিস এই অতিরিক্ত করে ফেলি যেটা আমাদের করা একদমই উচিত নয়। হ্যাঁ বন্ধু রাখা তো অবশ্যই দরকার বন্ধু ছাড়া এই পৃথিবীতে আপনাকে বুঝতে আর কেউ পারবেনা আর হ্যাঁ, বন্ধু অতিরিক্ত করবেন না। মনে রাখবেন বন্ধু মিনিমাম তিনটা থেকে চারটা থাকাই ভালো এর থেকে বেশি যেন না হয়। বেশি হলে আপনার সহ নষ্ট হবে। বন্ধুদের সাথে অতিরিক্ত সময় কাটাবেন না । চেস্টা করবেন কিছু সময়ের জন্য আড্ডা দেওয়া এটা যেন অতিরিক্ত না হয়। যে সকল বন্ধু ধূমপান বা আলাদা কিছু নিয়ে আলোচনা করে যেটা আপনার পছন্দ নয় সেসব বন্ধুর থেকে দূরে থাকবেন । এমন বন্ধু করবেন যাকে আপনি বুঝেন সে আপনাকে বোঝে তাছাড়া বাকি বন্ধুদেরকে সাইডে রাখবেন। বেশি বন্ধু করাও ঠিক নয় বেশি বন্ধু হলে পরবর্তী ক্ষেত্রে আপনি বিপদে পড়তে পারেন।
বিশেষ কিছু : ভালো ছেলে তারা নয় যারা সব সময় পড়াশোনা করে ভালো ছেলে তারা যারা অন্যদেরকে বোঝে অন্যদের সাথে ভালোভাবে কথা বলে পরিস্থতি ভালোভাবে বুঝতে পারে । তাই আপনি যে কোন পরিস্থিতিতে হুটহাট করে কথা বলবেন না নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন কে কি বলছে সেদিকে ধ্যান দিবেন তারপর ভাববেন যে আপনাকে কিভাবে বলা উচিত তাছাড়া বাড়তি কিছু বলে ফেলবেন না এতে আপনাকে অন্যরা আলাদাভাবে মানবে । তাই অযথা যেকোনো জায়গায় বেশি কথা বলা উচিত নয় । মনে রাখবেন আপনার একটা কথাই যেন তাদের উত্তর পেয়ে যাই।
আর হ্যাঁ এই পোস্টটি পড়েছে ঠিক আপনার একটু ভালো লেগে থাকে তাহলে নোটিফিকেশন অন করে রাখবেন যাতে আমরা এরকম আরো নতুন নতুন পোস্ট করার সাথে সাথে আপনার কাছে পৌঁছে যাই আর এই ওয়েবসাইট যদি না খুঁজে পান তাহলে Puruliabinodon.in লেখে সাইজ সার্চ দিবেন তবে এই সাইট খুলে যাবে।