পশ্চিমবঙ্গে কুল খওয়ার উপকারিতা :
পুরুলিয়া জেলার যে সকল লোকেরা আছে তা তারা সবাই হয়তো জানে যে কুল ছেচকি খাওয়া খুব একটা আনন্দের জিনিস। এ সময় সবাই স্কুল অভ্যস্ত সরস্বতী পূজার পরেই কুল খাওয়া স্টার্ট হয়ে যায় আমাদের তার মধ্যে দেখা যায় কুল ছেছকি খাওয়া । এ সময় ভর দুপুরবেলা খুলছেস্কির একটা আড্ডার আসর বসে যাই।
কুলছেছকি করতে দেখলে বা ফটো দেখলে অনেকেরি জিবে জল চলে আসে এরকমই একটা মজার খাদ্য হচ্ছে। এটা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর হয়তো কোথাও দেখতে পাবেন না ।
কুলের আচার, থেকে নুন ঝাল সহকারে কুল কিম্বা কুল কেটে তা লঙ্কা, নুন, সরষের তেল মৌরি পাতায় বেটে নিয়ে চাট খাওয়ার মজাই আলাদা! বাচ্চা থেকে বুড়ো অনেকেরই দারুণ প্রিয় ফল হল কুল। টক-মিষ্টি স্বাদের ছোট্ট ফল কুল খেতে ভালোবাসেন অনেকেই। কিন্তু তাঁরা জানেন না শরীরে ঠিক কি হচ্ছে এই ফল খাওয়ার ফলে। জানলে অবশ্য তাঁদের কুল খাওয়া বাড়বে বই কমবে না। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছে, ভিটামিন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারি। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি স্নায়ু এবং হাড়ের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উপকারি।
জানেন কি যে কুল নিয়ে এত কথা হচ্ছে, তার উপকারিতা। ঝট করে দেখে নিন কুলের উপকারিতাগুলি।
কুল খেলে কি উপকার হয় :
হাঁচি কাশি, - মরশুম বদল মানেই হাঁচি কাশি লেগে থাকে! আবার সরস্বতী পুজোর সময় রাত জেগে প্যান্ডেল বানানো বা ঠাকুর ভাসানের সময় অজান্তে সর্দি কাশিকে নেমতন্ন করা হয়ে যায়! এই সময় কুল খেলে তা শরীরে হাঁচি কাশির সমস্যা যেমন কমিয়ে দেয়, তেমনই টনসিলাইটিসের সমস্যা কমিয়ে দেয়।
জিভে ঘা- নানান কারণে জিভে ঘা হয়ে থাকে, বিশেষত মরশুম বদলের সময় তা হয়েই থাকে। কুলে রয়েছে ভিটামিন সি। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সেরে যায় জিভে ঘা। ঠোঁটের কোণেও অনেক সময় ঘা বা চামড়া উঠে যাওয়ার জ্বালা থাকে, তা সেরে যায় কুলে।
একটু শাল পাতায় নুন ঝাল, আর তাতে হালকা লাগিয়ে নিয়েই কুলে একটা কামড় বসাতে হয়! ব্যাস! সরস্বতী পুজোর মরশুমে, এভাবে কুলে কামড় বসিয়ে মজা পাননি, এমন বাঙালি মেলা ভার! বাজারে পৌষমাসের শেষের দিক থেকেই কুল উঠতে আরম্ভ করলেও, বাঙালি কুল খাওয়ার ছাড়পত্র পায় সরস্বতী পুজোর পরই!
কুল ব্যাবহার কিভাবে করা যায় :
কুল আমরা সরস্বতী পুজোতে ব্যবহার করে থাকি , পূজার প্রসাদ হিসেবে আমরা ব্যবহার করে থাকি, এছাড়াও কুল অনেক সময় আমরা আচার হিসেবে ব্যবহার করি। কুল শুকিয়ে আমরা চাটনি হিসেবে ব্যবহার করি। স্কুলের চাটনি খেতে ভীষণ মজা এক কথায় এটাকে কুলকুড়া নামে পরিচিত। পুজোর প্রসাদে কুল না দিলে প্রসাদের আনন্দই আসে না ।
গাছে কুল কখন ধরে :
কুল জানুয়ারি মাসের প্রথম দিক থেকেই ধরতে শুরু করে, কিন্তু আমরা সে সময় কুল খাই না আমরা কুল খাওয়া শুরু করি পূজার পর কারণ কুল প্রথম সরস্বতী পুজোর প্রসাদে ব্যাবহার হয়ে থাকে। তারপরে আমরা খাদ্য হিসাবে এটাকে ব্যবহার করে থাকি।
কুলছেছকি কিভাবে করবেন :
প্রথমে কুলগুলো ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নিন তারপর একটি পাত্রের সেগুলো রাখুন এবং কোন একটা পাটি দিয়ে বা পাথর দিয়ে বা মসলা বাটা হয় সেটা নিয়ে কুলগুলো গুলো বেঁটে নিন । কুলগুলো এমন ভাবে বাটুন যাতে বেশি গুড়ো না হয়ে যায় মাঝারি পাতলা করেননি । তারপর সেই বাটা খুলুগুলোতে নুন ছিটিয়ে দিন তারপর কয়েকটি মরিচ, কাঁচালঙ্কা গুলোকেও বেঁটে নিন। তারপর ওর মধ্যে দিয়ে দিন, তারপর মরিচ আর নুন বাটা কুল গুলোর সাথে ভালো করে মিক্স করে দিন। ব্যাস হয়ে গেল আপনার খুলছিস কি এবং এবার এগুলো খেতে পারেন। এগুলো খাওয়ার পর এই স্বাদটা আপনার মনে থেকে যাবে এটি অত্যন্ত সুস্বাদ খাবার ।
কুল খাওয়া কখন উচিৎ:
অনেকেই এটা হওয়ার সাথে সাথে খাওয়ার স্টার্ট করে দেই হয়তো জানুয়ারির মাঝামাঝি সে সময় কিন্তু এটা খাবার সঠিক সময় হচ্ছে পূজার পর কারণ সরস্বতী পূজার সময় এটা প্রথম ব্যবহার হয়ে থাকে তারপরে আমরা এটাকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকি তাছাড়াও কোন গুলো পেকে গেলে তার খাওয়ার স্বাদ টাই আলাদা যা বলে বুঝানো যাবে না।
সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিক থেকে এর খাওয়ার চাহিদা ছড়িয়ে পড়ে।
